হ্যাপি দিওয়ালি
হ্যাপি দিওয়ালি
॥ তৃণময় সেন ॥
১.
"রেনু, ইয়ে টেবিল কে উপর মিঠাই কা ডাব্বা রাখ্হা হুয়া হ্যায়, যাতে টাইম উঠা লেনা... অউর হা, কাল থোড়া জলদি চলি আনা... শামকো ঘরপে পূজা হ্যায় তো কাম জাদা হি রাহেগা.." "ঠিক হ্যায় ভাবী" শাড়ীতে হাত মুছতে মুছতে জবাব দেয় রেনু। দীপাবলির দিনেও বানসাল মেনশনে কাজ করতে এসেছে ও। এ মাসে অ্যাডভান্স চাওয়ায় ভাবী নরিতা বানসালের শর্ত ছিল যদি ও দিওয়ালির দিন আসে তাহলে ভেবে দেখবেন। এমনিতে এবারের দিওয়ালিতে ওর মনটা খুব একটা ভাল নেই তবুও ঘরে ফেরার সময় অ্যাডভান্স বেতন পাবার সাথে সাথে মিষ্টির প্যাকেট রেনুর মেজাজটা বেশ ভালো করে দিয়েছিল।
২.
দিল্লির কারোলবাগে খানদানি মিষ্টির দোকান বানসালদের। বাবা কাজ থেকে অবসর নেওয়ায় আদিত্যই গত ছয়-সাত বছর থেকে ব্যবসা সামলাচ্ছেন। "আদি, আপ বাহার যা রহে হো.." পিছন থেকে নরিতার ডাক শুনে মনে মনে একটু বিরক্ত হয়ে কপালে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন সেঁটে পিছন ফিরলেন আদিত্য। "বচ্চকে লিয়ে পটাকে লে আইয়েগা।" কালকেও কথাটা পেড়েছিলো নরিতা। গতবছর দীপাবলি শেষে দিল্লির বাতাস ধোঁয়াশায় বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল। স্কুল-কলেজ পর্যন্ত বন্ধ ছিল সপ্তাহখানেক। এবছর যদিও সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তবুও কে শোনে কার কথা! নরিতা বলে "সারা দুনিয়া তো পটাকা ফোঁড় রাহা হ্যায় দিওয়ালি কে দিন, হামারে বচ্ছে থোড়া পটাকে ফোঁড় লেঙ্গে তো ক্যা হো যায়গা!" বৌয়ের কথার কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে সোজা বেরিয়ে যান আদিত্য।
৩.
"ইয়ে কামওয়ালি সারে এক জ্যাসি হোতি হ্যায়, ইনকো তো বাস অ্যাডভান্স চাহিয়ে" রাগে গজগজ করতে থাকে নরিতা, রেনু আসেনি আজ। সহসা বাইরে থেকে লোকেশ ডাক পাড়ে। "ম্যাডাম, বহ গাড়ি কি চাবি ফ্রিজ কে উপর পড়া হ্যায়, জরা দিজিয়েগা" বাইরে ধোঁয়ায় ভরা রাস্তায় বাইকে দোকান যাওয়াটা ঠিক হবে না ভেবে ড্রাইভার লোকেশ কে ডেকে পাঠিয়েছেন আদিত্য। "অরে লোকেশ, ইয়ে রেনু তুমহারে ঘর কে পাস্ হি রেহতি হ্যায় না?" লোকেশকে দ্যাখে হঠাত্ মনে করলো নরিতা। "আরে হা ম্যাডাম, ম্যায় তো বাতানা হি ভুল গায়া... রেনু কা পতি তো আজ সুবাহ হি গুজর গায়া। আস্তমা থা না উসকো। কাল শাম সে বহুত খাস রাহা থা.. সাস নেহি লে পা রাহা থা.. আজ সুবাহ হি মর গায়া বেচারা। "
৪.
এখনো টিভির সামনে বসে সবাইকে ডেকে যাচ্ছেন অমরনাথবাবু। দীপাবলির শুভেচ্ছাবার্তা দিতে বাবার ফটোসহ লোকাল টিভি চ্যানেলে পাঠিয়েছিল ছেলে আদিত্য। "সে ইয়েস টু হ্যাপিনেস, নো টু ফায়ারক্রেকার্স......... বানসাল সুইটস উইশিং ইউ এন্ড ইউর ফ্যামিলি আ ভেরি হ্যাপি অ্যাণ্ড সেফ দিওয়ালি।"
॥ তৃণময় সেন ॥
১.
"রেনু, ইয়ে টেবিল কে উপর মিঠাই কা ডাব্বা রাখ্হা হুয়া হ্যায়, যাতে টাইম উঠা লেনা... অউর হা, কাল থোড়া জলদি চলি আনা... শামকো ঘরপে পূজা হ্যায় তো কাম জাদা হি রাহেগা.." "ঠিক হ্যায় ভাবী" শাড়ীতে হাত মুছতে মুছতে জবাব দেয় রেনু। দীপাবলির দিনেও বানসাল মেনশনে কাজ করতে এসেছে ও। এ মাসে অ্যাডভান্স চাওয়ায় ভাবী নরিতা বানসালের শর্ত ছিল যদি ও দিওয়ালির দিন আসে তাহলে ভেবে দেখবেন। এমনিতে এবারের দিওয়ালিতে ওর মনটা খুব একটা ভাল নেই তবুও ঘরে ফেরার সময় অ্যাডভান্স বেতন পাবার সাথে সাথে মিষ্টির প্যাকেট রেনুর মেজাজটা বেশ ভালো করে দিয়েছিল।
২.
দিল্লির কারোলবাগে খানদানি মিষ্টির দোকান বানসালদের। বাবা কাজ থেকে অবসর নেওয়ায় আদিত্যই গত ছয়-সাত বছর থেকে ব্যবসা সামলাচ্ছেন। "আদি, আপ বাহার যা রহে হো.." পিছন থেকে নরিতার ডাক শুনে মনে মনে একটু বিরক্ত হয়ে কপালে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন সেঁটে পিছন ফিরলেন আদিত্য। "বচ্চকে লিয়ে পটাকে লে আইয়েগা।" কালকেও কথাটা পেড়েছিলো নরিতা। গতবছর দীপাবলি শেষে দিল্লির বাতাস ধোঁয়াশায় বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল। স্কুল-কলেজ পর্যন্ত বন্ধ ছিল সপ্তাহখানেক। এবছর যদিও সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তবুও কে শোনে কার কথা! নরিতা বলে "সারা দুনিয়া তো পটাকা ফোঁড় রাহা হ্যায় দিওয়ালি কে দিন, হামারে বচ্ছে থোড়া পটাকে ফোঁড় লেঙ্গে তো ক্যা হো যায়গা!" বৌয়ের কথার কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে সোজা বেরিয়ে যান আদিত্য।
৩.
"ইয়ে কামওয়ালি সারে এক জ্যাসি হোতি হ্যায়, ইনকো তো বাস অ্যাডভান্স চাহিয়ে" রাগে গজগজ করতে থাকে নরিতা, রেনু আসেনি আজ। সহসা বাইরে থেকে লোকেশ ডাক পাড়ে। "ম্যাডাম, বহ গাড়ি কি চাবি ফ্রিজ কে উপর পড়া হ্যায়, জরা দিজিয়েগা" বাইরে ধোঁয়ায় ভরা রাস্তায় বাইকে দোকান যাওয়াটা ঠিক হবে না ভেবে ড্রাইভার লোকেশ কে ডেকে পাঠিয়েছেন আদিত্য। "অরে লোকেশ, ইয়ে রেনু তুমহারে ঘর কে পাস্ হি রেহতি হ্যায় না?" লোকেশকে দ্যাখে হঠাত্ মনে করলো নরিতা। "আরে হা ম্যাডাম, ম্যায় তো বাতানা হি ভুল গায়া... রেনু কা পতি তো আজ সুবাহ হি গুজর গায়া। আস্তমা থা না উসকো। কাল শাম সে বহুত খাস রাহা থা.. সাস নেহি লে পা রাহা থা.. আজ সুবাহ হি মর গায়া বেচারা। "
৪.
এখনো টিভির সামনে বসে সবাইকে ডেকে যাচ্ছেন অমরনাথবাবু। দীপাবলির শুভেচ্ছাবার্তা দিতে বাবার ফটোসহ লোকাল টিভি চ্যানেলে পাঠিয়েছিল ছেলে আদিত্য। "সে ইয়েস টু হ্যাপিনেস, নো টু ফায়ারক্রেকার্স......... বানসাল সুইটস উইশিং ইউ এন্ড ইউর ফ্যামিলি আ ভেরি হ্যাপি অ্যাণ্ড সেফ দিওয়ালি।"
Comments
Post a Comment