অশরীরী
অশরীরী
।। তৃণময় সেন।।
জানিস ঋতজা, আমার কাছে একটা সন্মোহন ছিলি তুই সেই কলেজের প্রথম দিন থেকে। তোকে শোনাব ভেবে রোজ বিকেলে শালবনে বসে কবিতা লিখতাম। কবে যে ভালোলাগা ভালোবাসা হয়ে হৃদয়ঘাটে নোঙর গেড়েছিল তা টেরই পাইনি। মনে পড়ে সেই দিন, কথা দিয়েছিলি শনিবার সন্ধ্যায় স্টেশনের ওই জংধরা টিনের ঘরটার পিছনে আসবি। রবিবারে তোর বিয়ে ছিল যে। রাতের অন্ধকারে কাছাড় এক্সপ্রেসে করে বেরিয়ে যাবো নিরুদ্দেশ ঠিকানার উদ্দেশ্যে একবুক নীল স্বপ্ন নিয়ে। দিনগুলো যে কি করে পেরিয়ে যায় বোঝাই যায় না। সেই সন্ধে থেকে আজকের সন্ধে, পায়ে পায়ে ১০টা বছর পেরিয়ে গেলো। শুনেছি তুই নাকি আজ সন্ধে এই স্টেশনটায় নামবি। মাইবং থেকে সোজা ট্রেন। আমি জানি এই ভরসন্ধের বৃষ্টি আজ থামবেনা। আর তোর বাড়ির পথে হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারটাও যে ছিঁড়ে পড়ে আছে। আজকে বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যা রাতে তাতেই পা লেগে গিয়ে যে তুই........ হা হা হা। জানি...সব জানি আমি।
ওহো আরেকটা গল্প তো তোকে শোনানোই হয়নি। ওই সন্ধেতে যখন তুই আসলিনা তখন একটা চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেবার হাতছানিতে রেললাইনেই শুয়ে পড়েছিলাম। জংধরা যানটা এক নিমিষেই পেরিয়ে গেছিল আমার উপর দিয়ে। খুব একটা টের পাইনি জানিস ঋতজা। আমার মনে হয় সেই তুলনায় ওই বিদ্যুতের তারটা তোকে অনেক বেশি কষ্ট দেবে। তুই কষ্ট পাবি ভাবলে কষ্ট পাই কিন্তু আমি এটাও জানি যে অশরীরীদের দেশে তোকে আবার হারাবার কোনো ভয় নেই আমার। তুই আমার ছিলি আমার হয়েই থাকবি। ওইতো ট্রেন আসছে আমি ঠিক শুনতে পাচ্ছি... কু.... ঝিকঝিক.....ঝিকঝিক
Comments
Post a Comment